মক্কা চুক্তিকে আরও বিস্তৃত করতে চান এরদোগান

মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতাকে শুধুমাত্র তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে চান না তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগান। বুধবার আরব বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ সংবাদপত্র আশরাক আল-আওসাত’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, ভবিষ্যতে এই চুক্তির আওতায় মধ্যপ্রাচ্যের আরও দেশকে যুক্ত করার লক্ষ্য রয়েছে তার। এরদোগান বলেন, তাদের দৃষ্টিভঙ্গি আসলে তিনটি দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং তারা চান এই উদ্যোগটি আরও বিস্তৃত হোক। সম্ভব হলে একদিন এই অঞ্চলের সব দেশকেই এই কাঠামোর আওতায় নিয়ে আসার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের, যা স্থায়ী আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা অর্জনের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হবে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সাম্প্রতিক উত্তেজনাকে আঞ্চলিক পরিস্থিতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে স্বীকার করলেও এরদোগান স্পষ্ট করেছেন যে, মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিকে কেবল এই উত্তেজনার প্রতিক্রিয়া হিসেবে দেখা উচিত নয়। তার মতে, এভাবে দেখলে দেশগুলোর প্রকৃত নীতি ও উদ্দেশ্য বোঝা সম্ভব হবে না। আনাদোলু বার্তা সংস্থাকে দেওয়া তথ্যানুযায়ী, এরদোগান জোর দিয়ে বলেন, এই চুক্তি কোনো নির্দিষ্ট দেশের জন্য হুমকি নয়। বরং শান্তি, সমৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতা প্রত্যাশী ভ্রাতৃপ্রতিম সব দেশের অংশগ্রহণের জন্য চুক্তিটি উন্মুক্ত রাখা হয়েছে।

চুক্তিটির পেছনে দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে উল্লেখ করে এরদোগান জানান, স্বাক্ষরকারী দেশগুলোর পাশাপাশি এই অঞ্চলের অন্যান্য দেশের সঙ্গেও বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা চলছিল। আঙ্কারা সবসময় আঞ্চলিক দেশগুলোর ইচ্ছা ও সম্মিলিত প্রজ্ঞাকে সবচেয়ে গুরুত্ব দিয়ে আসছে। তিনি বলেন, বাইরের পক্ষ থেকে চাপিয়ে দেওয়া সমাধান যে বিপর্যয় ডেকে আনে, তা তুরস্ক জানে। তাই সবসময় উত্তেজনার পরিবর্তে কূটনীতি, সংঘাতের পরিবর্তে সংলাপ এবং বিভাজনের পরিবর্তে শক্তিশালী আঞ্চলিক সহযোগিতাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।

এরদোগান আরও বলেন, পরিবর্তিত আঞ্চলিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে এই চুক্তিটি কৌশলগত দৃঢ়তার প্রতিনিধিত্ব করছে। এটি তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যকার সহযোগিতার চেয়েও বড় একটি বিষয়। তিনি মনে করেন, আঞ্চলিক সমস্যাগুলোর দায়িত্ব এই অঞ্চলের দেশগুলোরই নেওয়া উচিত এবং এটিই সেই পথে প্রথম পদক্ষেপ। আঙ্কারা এই চুক্তিকে আঞ্চলিক সহযোগিতা ও সংহতির নতুন যুগের সূচনা হিসেবে দেখছে, যেখানে শান্তি ও নিরাপত্তাপ্রত্যাশী অন্য দেশগুলোর যুক্ত হওয়ার সুযোগ রয়েছে।