সরকারি দপ্তরে পর্যায়ক্রমে সৌরবিদ্যুৎ চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানিয়েছেন যে, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন সব দপ্তর ও সংস্থায় পর্যায়ক্রমে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার নিশ্চিত করা হবে। সোমবার (১৭ আগস্ট) স্থানীয় সরকার বিভাগের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক পর্যালোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন। সভায় স্থানীয় সরকার বিভাগ এবং পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের আওতাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোতে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহারসংক্রান্ত বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়।

প্রতিমন্ত্রী জানান, সরকারি অফিসগুলোর ছাদে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের মাধ্যমে বিদ্যুৎ ব্যয় কমানোর পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। সংসদ ভবনে ইতিমধ্যে এই কার্যক্রম শুরু হয়েছে এবং ধাপে ধাপে অন্যান্য সরকারি অফিসেও তা সম্প্রসারণ করা হবে। তিনি আরও বলেন, এই উদ্যোগ শুধু কেন্দ্রীয় পর্যায়ে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং জেলা, উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের প্রতিটি অফিসেও তা বাস্তবায়নের লক্ষ্য রয়েছে।

নেট মিটারিং ব্যবস্থার মাধ্যমে সৌরবিদ্যুৎ থেকে উৎপাদিত অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা সম্ভব হবে, যা স্থানীয় সরকারের রাজস্ব আহরণের নতুন সুযোগ তৈরি করবে। এই প্রক্রিয়া বাস্তবায়নের জন্য স্থানীয় সরকার বিভাগ এবং পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের দুজন অতিরিক্ত সচিবের নেতৃত্বে দুটি পৃথক কমিটি গঠন করা হবে। এই কমিটিগুলো ওয়ালটন, প্রাণ-আরএফএল ও গ্রামীণ শক্তির মতো সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা করে বাস্তবায়ন পদ্ধতি ও ব্যয় নির্ধারণ করবে।

উল্লেখ্য, গত ১০ আগস্ট মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সরকারি কার্যালয়গুলোতে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানোর বিষয়ে নির্দেশনা জারি করেছে। এর ধারাবাহিকতায় বঙ্গভবন, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, পরিকল্পনা কমিশন ও অর্থ বিভাগে দাপ্তরিক কাজে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়।

সভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে প্রতিমন্ত্রী জানান, ই-রিকশা নিয়ন্ত্রণে পৃথক বিধিমালা প্রণয়নের কাজ চলছে। এছাড়া চলতি অর্থবছরের মধ্যেই স্থানীয় সরকারের পাঁচটি স্তরের নির্বাচন সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। সভায় স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহীদুল হাসান, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের সচিব মোহাং শওকত রশীদ চৌধুরীসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় তিনি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের ১৮০ দিনের কার্যক্রমের একটি সংক্ষিপ্ত চিত্র তুলে ধরেন।