দেবীগঞ্জে ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ১২ সদস্যের অনাস্থা প্রস্তাব

পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার সুন্দরদিঘী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আব্দুল হালিমের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব দাখিল করেছেন পরিষদের ১২ জন ইউপি সদস্য। দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার, স্বজনপ্রীতি এবং অর্থ আত্মসাতের মতো গুরুতর অভিযোগ তুলে তারা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। বুধবার ইউপি সদস্যরা দেবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে অনাস্থা প্রস্তাবের লিখিত আবেদন জমা দেন।

লিখিত আবেদনে ইউপি সদস্যরা উল্লেখ করেন, চেয়ারম্যানের বিভিন্ন অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহারের কারণে পরিষদের কার্যক্রম পরিচালনায় জটিলতা সৃষ্টি হচ্ছে। এছাড়া সাধারণ জনগণের সঙ্গে তার দুর্ব্যবহারের অভিযোগও তোলা হয়েছে। সব সদস্যের সম্মতিক্রমে জরুরি সভা করে এই অনাস্থা প্রস্তাব নেওয়া হয়েছে এবং এর রেজুলেশনের অনুলিপি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ জানান, সম্প্রতি একজন নারী ইউপি সদস্যকে বিনা দোষে লাঞ্ছিত করা হয়েছে, অথচ চেয়ারম্যান অভিভাবক হিসেবে কোনো ব্যবস্থা নেননি। তিনি বলেন, একজন ইউপি সদস্য লাঞ্ছিত হলেন, অথচ চেয়ারম্যান বিষয়টিকে গুরুত্বই দিলেন না। তিনি আরও প্রশ্ন রাখেন, আজকে একজন ইউপি সদস্য লাঞ্ছিত হয়েছেন, আগামীতে অন্য কেউ লাঞ্ছিত হবেন না তার নিশ্চয়তা কী? অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, অনাস্থা প্রস্তাবে স্বাক্ষরকারী সবাই তথ্য-প্রমাণ দিতে প্রস্তুত আছেন।

তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সুন্দরদিঘী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আব্দুল হালিম। তিনি দাবি করেন, ইউনিয়নে তার ভাবমূর্তি স্বচ্ছ এবং কোনো দুর্নীতির সঙ্গে তিনি জড়িত নন। চেয়ারম্যানের ভাষ্যমতে, সামনে নির্বাচন থাকায় তাকে হেয়প্রতিপন্ন করতে জিন্না মেম্বারের নেতৃত্বে ইউপি সদস্যরা গোপনে বৈঠক করে এই অনাস্থা প্রস্তাব এনেছেন।

দেবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইন্দ্রজীৎ সাহা অনাস্থা প্রস্তাব পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, তদন্ত সাপেক্ষে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। উল্লেখ্য, মো. আব্দুল হালিম ২০২২ সালের ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত পঞ্চম ধাপের ইউপি নির্বাচনে ঘোড়া প্রতীক নিয়ে ৬ হাজার ৭৫১ ভোট পেয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন।