নেপালে তুষারধস ও আকস্মিক বন্যায় এখন পর্যন্ত ৯৫ জনের প্রাণহানি ঘটেছে বলে দেশটির সরকার নিশ্চিত করেছে। এই দুর্যোগে অন্তত ৪০৩ জন নিখোঁজ রয়েছেন, যাদের মধ্যে ৩৪১ জনই বিদেশি পর্যটক। বিবিসি জানিয়েছে, নিখোঁজদের মধ্যে ২০০ জন নারী এবং ২০৩ জন পুরুষ রয়েছেন। নেপাল ট্যুরিজম বোর্ড জানিয়েছে, নিখোঁজ পর্যটকরা ২৬টি ভিন্ন দেশের নাগরিক। এর মধ্যে ভারতের ১৩৩ জন, যুক্তরাষ্ট্রের ৪৭ জন এবং বৃটেনের ৩৩ জন নাগরিক রয়েছেন। নিখোঁজদের অবস্থান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ চলছে বলে সংস্থাটি জানিয়েছে।
বুধবার ভোরের দিকে নেপালের রাজধানী কাঠমাণ্ডুর উত্তরে অবস্থিত রসুয়া জেলায় এই বন্যা আঘাত হানে। নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল পার্লামেন্টে জানিয়েছেন, প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী স্থানীয় সময় সকাল ৮টা ৩৭ মিনিটে ওই অঞ্চলে ভূমিকম্প আঘাত হানে। এর পরপরই তুষারধস ও আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি হয়, তবে এসব তথ্য এখনো যাচাই করা হচ্ছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, নেপালের পাশাপাশি চীনও এই দুর্যোগে ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে এবং উভয় দেশ এ বিষয়ে সমন্বয় করে কাজ করছে।
নিখোঁজদের তালিকায় ২৬ জন পুলিশ সদস্য, নয়জন সশস্ত্র পুলিশ সদস্য এবং ৪৪ জন সেনা সদস্য রয়েছেন। এছাড়া কাস্টমস ও ইমিগ্রেশনের কয়েকজন কর্মকর্তাও নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গেছে। রসুয়া ও নুওয়াকোট জেলা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেখানে সড়ক, সেতু, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং জলবিদ্যুৎ অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, সীমান্তবর্তী বাণিজ্য কেন্দ্রে ভূমিধসের ঘটনায় ব্যাপক হতাহতের খবর পাওয়া গেছে এবং তিব্বত অঞ্চলেও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং নিখোঁজদের উদ্ধারে সর্বাত্মক তৎপরতা চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন।
নেপালের সেনাবাহিনীর মুখপাত্র জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত ৮৮ জন বন্যা দুর্গতকে উদ্ধার করা হয়েছে এবং মাইলুং গ্রাম থেকে আরও ১১৫ জনকে উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। উদ্ধার অভিযানের জন্য ১৫টি হেলিকপ্টার মোতায়েন করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তিমুরে, সিয়াব্রুবেসি এবং বেত্রাবতীতে ব্যাপক প্রাণহানি ও সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া ত্রিশুলি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পেরও ক্ষতি হয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ওই এলাকায় জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণে নিয়োজিত আটজন দক্ষিণ কোরীয় নাগরিকের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।

